বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় শুধু ভৌগোলিক কারণে নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নদীর গভীর সম্পর্কের জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী শুধু পানির ধারা নয়; এটি একটি দেশের শ্বাস-প্রশ্বাস, যা যুগের পর যুগ ধরে মানুষের জীবন, জীবিকা এবং সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
দেশের বড় নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী ও সুরমা উল্লেখযোগ্য। এসব নদী শুধু পানি বহন করে না, বহন করে ইতিহাস, মানুষের স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। নদীকেন্দ্রিক কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-পরিবহন এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ওপর এখনো নির্ভরশীল লাখো মানুষ।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, বালু উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের অনেক নদী সংকটের মুখে পড়েছে। কোথাও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে শাখা নদী, আবার কোথাও ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছে হাজারো পরিবার।
পরিবেশবিদদের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে নিয়মিত খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর পরিবেশ আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নদীকে ঘিরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের নদীগুলো কখনো ভাঙে, কখনো নতুন ভূমি গড়ে তোলে। এই পরিবর্তনই নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মানুষের অবহেলা ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড নদীর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, মৎস্যসম্পদ টিকে থাকবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই নদী সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, উন্নয়ন এবং জাতীয় পরিচয় রক্ষার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।